করোনা ভাইরাসের মতো মারণ ভাইরাসের মোকাবিলায় বাংলা যা করে দেখিয়েছে, সেটা একটা মডেল। শুক্রবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই রাজ্যে এখনও পর্যন্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে, বাজারে সবজি-মাছ-মাংসও পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি এটাও স্বীকার করে নেন, কিছু ক্ষেত্রে দামটা একটু বেশি পড়ছে। তবে দেশের এই উদ্বুত পরিস্থিতেতে বাংলা যা করে দেখিয়েছে, তা গোটা দেশের ক্ষেত্রে রোল মডেল। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘আমরা কিন্তু এক তারিখে বেতন দিয়েছি। লকডাউনে অনেক টাকা নষ্ট হয়েছে, আয় নেই। তবুও আমরা দিয়েছি, এটা আমাদের গর্ব’। রাজ্যে করোনা ভাইরাসে কতজনের মৃত্যু হয়েছে এই বিভ্রান্তির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে বেলেঘাটা আইডি-তে যাঁরা ভর্তি রয়েছেন, তাঁরা সকলে ভাল আছেন। আমি খুবই খুশি। প্রার্থনা করি, তাঁরা যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান’। এরপরই তিনি অবশ্য খানিকটা সাবধানের সুরেই বলেন, ‘এই দু’সপ্তাহে সংখ্যাটা একটু বাড়বে, তবে চিন্তার কারণ নেই। আমরা চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলব’। এদিন তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন চারজন। ফলে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮। হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৮৯২ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫২ হাজার মানুষ। পাশাপাশি ৫৯টি করোনা হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে বাংলায়। তবে তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় করোনা হাসপাতাল তৈরি করতে দিচ্ছেন না কিছু মানুষ। চার-পাঁচজন মিলেই কি ঠিক করবেন কোথায় কী হবে? এটা চলতে পারে না, সরকার রয়েছে তারাই ঠিক করবে কোথায় কী তৈরি করতে হবে। তাঁর অনুযোগ, কেউ চায় না এলাকায় একটা হাসপাতাল হোক। কেউ মারা গেলেও দেহ দাহ করতে দিচ্ছে না। এটা অমানবিক আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, ‘কেউ মারা গেলে তাঁর দেহে কোনও জীবাণু থাকে না, এটা বিশেষজ্ঞরাই বলেছেন’। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন এই ব্যাপারে উস্কানি দেওয়ার ব্যাপারে।