হুগলির হরিপাল এলাকার বলদবাঁধ, প্রতিবছরই শীত পড়লে এই জলাশয়ে প্রচুর পরিযায়ী পাখি উড়ে আসে দেশ-বিদেশ থেকে। আর গরম পড়ার আগেই উড়ে যায় নিজভূমে। হরিপালের বলদবাঁধ গ্রামে রয়েছে পাঁচটি বড় জলাশয়। সেখানেই ভিড় জমায় অসংখ্য পরিযায়ী পাখি। ফলে প্রতিবছর নানান পাখির কলতানে মুখরিত থাকে এই এলাকা।
তবে প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষেই পাখিরা দলবেধে এই জলাশয়গুলি ছেড়ে পাড়ি দেয় অজানা স্থানে। তবে এবছর মাঝ চৈত্রেও দেখা যাচ্ছে ওই পরিযায়ী পাখির দলগুলিকে। এই অসময়ে জলাশয়গুলিতে এত পাখি দেখে আশ্চর্ষ হচ্ছেন গ্রামবাসীরাও। অনেকেই দাবি করছেন, লকডাউনে পরিবেশ দূষণ কমার জন্যই পরিযায়ী পাখির দল এলাকা ত্যাগ করেনি। চারিদিকে কল-কারখানা বন্ধ, হাতে গোনা কয়েকটা গাড়ি চলছে রাস্তায়, শুনশান এলাকার রাস্তাঘাট। ফলে বর্তমানে পরিবেশ হয়েছে অনেকটাই দুষণমুক্ত। ফলে শুধু বলদবাঁধ গ্রাম নয়, এই এলাকার সর্বত্রই শোনা যাচ্ছে পাখির কলতান।


শুধু পরিযায়ী পাখিই নয়, দেখা মিলছে চড়ুই, দোয়েল, ঘুঘু, ময়না মাছরাঙা পাখিদেরও। এমনকী গ্রাম ছাড়িয়ে শহরেও এখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে রোজ। পরিবেশবিদদের মতে, করোনা মোকাবিলায় তিন সপ্তাহের লকডাউন লাগু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্যগুলিও এই নিয়ম মেনে চলছে। রাস্তাঘাটে ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়ির চলাচল। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন কারখানা। এর জেরে একধাক্কায় অনেকটাই কমেছে দূষণ। এই লকডাউনের একসপ্তাহ পার করতেই পাখিরা ফিরে আসছে জলাশয়ে। ফলে চৈত্রের এই ভরা গরমেও পরিযায়ী পাখিরা থেকে গিয়েছেন উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে।


বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউনের ক্ষতিকর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়লেও ভালো প্রভাব পড়ছে পরিবেশে। অনেকেই বলছেন, এই লকডাউন বিশ্বের আয়ু আরও পাঁচবছর বাড়িয়ে দেবে। তাই এখনই দাবি উঠতে শুরু করেছে, করোনার মতো মহামারী না হলেও প্রতিবছর এক-দুই দিন এভাবেই লকডাউন করা হোক গোটা বিশ্বে। তাতে প্রকৃতি দূষণমুক্ত হয়ে পশু-পাখিদের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে।