‘বড়লোকের বেটি লো লম্বা লম্বা চুল, এমন মাথায় বেঁধে দিব লাল গেন্দা ফুল’ বাংলার এই জনপ্রিয় লোক সংগীতের সঙ্গে পাঞ্জাবী শব্দ জুড়ে মিউডিক ভিডিও তৈরি করেছেন র‍্যাপ গায়ক বাদশা। এই মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। অভিযোগ উঠেছে গানটির প্রকৃত স্রষ্টা বীরভূমের লোকশিল্পী রতন কাহারের নাম দেওয়া হয়নি এই মিউজিক ভিডিওতে। অনেকেই অভিযোগ করেন, মহান এই লোকশিল্পীকে সম্মান জানাননি জনপ্রিয় র‍্যাপার বাদশা। অবশেষে এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন বাদশা। একটি ভিডিও বার্তা ও ইনস্টাগ্রামে লিখে বাদশা জানিয়েছেন রতন কাহারের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।

বাদশা জানিয়েছেন, ‘মহান লোকশিল্পী রতন কাহারের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমার পক্ষে যেভাবে, যতটা সম্ভব ওনাকে প্রকৃত সম্মান দিয়ে, আর্থিকভাবে ওনার পাশে দাঁড়াতে চাই’। উল্লেখ্য, ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটির লেখা ও সুর রতন কাহারের করা। ১৯৭২ সালে গানটি লেখেন এই শিল্পী, যা প্রসার ভারতীতে প্রথম শোনানো হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে শিল্পী স্বপ্না চক্রবর্তী এই গানটি গাওয়ার পরই জনপ্রিয়তা পায়। লোকমুখে ঘুরতে শুরু করে ‘বড়লোকের বেটি লো’। তবে সেই সময়ও অভিযোগ উঠেছিল গানটির অলঙ্করণে রতন কাহারের নাম দেওয়া হয়নি। এবারও একই অভিযোগ ওঠায় বীরভূমের এই প্রবীন লোকশিল্পী ব্যথিত হয়েছেন। তবে বাদশা সোশাল মিডিয়ায় বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসলেন। এক লম্বা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘ভিডিয়োতে আমি বাংলা লোকসঙ্গীতের দুটো লাইন ব্যবহার করেছি। যেটা আমি বাংলা লোকসঙ্গীত বলেই জানতাম। পরে জানতে পারি, গানটি লিখেছেন একজন বিখ্যাত এবং বর্ষীয়ান বাঙালি লোকশিল্পী রতন কাহার। তবে আর্টিষ্ট ফোরামের কাছেও আমরা এটা জানতে পারিনি। পরে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি এই গানটি রতন কাহারের। আমি নিজে পাঞ্জাবি। যেমন আমাদের একটা সুন্দর সংস্কৃতি আছে, তেমন বাঙালিদেরও রয়েছে। আমি সবরকম সংস্কৃতিকেই শ্রদ্ধা করি। এক শিল্পী হিসাবেও আরেকজন শিল্পীকে সম্মান করি। আমি চেয়েছিলাম, গোটা বিশ্ব গানটা শুনুক। আমি নিজে লোকগান ভালোবাসি। এই গান যিনি লিখেছেন, তাঁর শুভাকাঙ্খীরা আমায় জানিয়েছেন, তাঁর আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। আমি তাঁকে আর্থিক সাহায্য করতে চাই। তবে যতটা সম্ভব, যেভাবে সম্ভব আমি ওনাকে আর্থিক সাহায্য করতে চাই। আমি ওনাকে সাহায্য করতে পারলে খুশি হব। আমি শিল্পী হিসাবে কখনও ওনাকে অসম্মান করতে চাইব না। আমার এটা জানাতে কয়েকদিন সময় লাগল’। লকডাউনের জন্যই যে তাঁর প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে দেরি হল সেটা জানিয়ে ক্ষমাও চেয়েছেন জনপ্রিয় পাঞ্জাবি র‍্যাপার বাদশা।