শীতের সারেগামা

0
130

নীলার্ণব চক্রবর্তী
আমার পাড়ার একটি ছেলের নাম ছিল নেপোলিয়ন। সবাই তাকে নেপো বলে ডাকত। নেপোয় মারে দই বলে খচাত। এই নেপোলিয়ন রীতিমতো গরিবগুর্বো। মাঘের শীতে একবার নিউমোনিয়া হয়ে সে টপকে গেল। এখানেই এই নেপোলিয়নের সঙ্গে সেই নেপোলিয়নের সরাসরি যোগ। সেই নোপোলিয়ন মানে সম্রাট নেপোলিয়নের কথা বলছি (বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো…)। কারণ, রাশিয়ার ভুবনখ্যাত ঠান্ডা সম্রাটকে গিলে খেয়ে ফেলেছিল। রুশি রূঢ় শীতের সঙ্গে লড়তে গিয়ে ফরাসি সম্রাটের হাফ সেনাদলই ফউত। স্ট্র দিয়ে ইউন্টার যেন চুকচুক করে শেষ করে দিল নেপোলিয়নের ঝাঁঝাল পানীয়। যে দেশে হিমাঙ্কের নীচে ঠান্ডার ১০-২০ নেমে যাওয়াটা ছেলেখেলা, সেখানে হামলার পরিকল্পনাটাই আগাগোড়া ভুলে ভরা, ছেলেখেলা ছিল। থাক থাক নেপোলিয়ন। বঙ্গের শীতে নেপোলিয়ন টানলে কেউ কেউ মার্ক্সের সঙ্গে মাছি বা রবি ঠাকুরের সঙ্গে ঘেয়ো কুকুরের কমপ্যারিজন-তত্পর হবেন। যদিও ‘রাতে মশা দিনে দিনে মাছি, এই নিয়েই কলকাতায় আছি’ বা ‘শয্যায় ভার্যার প্রায় ছারপোকা উঠে গায়’ এই তো আমাদের রোজকার রকমারি। শীত নিয়ে আদিখ্যেতাই বা হবে না কেন, এই শীত ডেঙ্গিকে লেঙ্গি দিয়েছে, বদনামি ঘামের চামড়া গুটিয়ে দিয়েছে, জলকে দৈত্য করেছে। তাই আঁতেল বাঙালি আর কিছু করুক না করুক ফেসবুকের বুকপিঠমাথায়, হোয়্যাটস অ্যাপে শীতের সাগর রচনা করেছে। ব্যর্থ প্রেমের তাজমহল থেকে চৌকস রাজনৈতিক ধারাল জোকসের ফোয়ারা ছুটিয়েছে ফুরফুরিয়ে। একটি জোকে চোখ ভালমতো চিপকাল। সেখানে শীতকাল ও স্নান নিয়ে কিছু মনীষী উবাচের কথা বলেছেন এক প্রতিভাধর। যেমন রবীন্দ্রনাথ: স্নান যে করে আর স্নান যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে। নজরুল: চল চল চল/ মাথায় দু’ফোঁটা ছিটিয়ে জল, / শরীরে গামছা বুলিয়ে বল/ ঢেলেছি আমি অনেক জল/ এবার বিজয় হবেই স্থল/ চল চল চল। শুধু মনীষী নয় রাজনৈতিক দলও আছে। যেমন, তৃণমূল: শীতে যদি কেউ চান করতে বলে তবে তার বাড়িতে বোম মারুন। পিছনে বুলডক লিলিয়ে দিন। সিপিএম: স্নান না করা আমাদের ভিত্তি। গায়ে বোঁটকা গন্ধ আমাদের ভবিষ্যত্।