আক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা

0
24

আশিস ঘোষ
মাত্র ৫০০ টাকা পেটিএমে ফেললেই জানতে পারবেন আধার কার্ডের নাড়িনক্ষত্র। দশ মিনিটের মধ্যেই পেয়ে যাবেন লগ ইন আইডি আর পাসওয়ার্ড। খুললেই দেখবেন, আপনি আধারের পোর্টালে যে কোনও নম্বর ঢোকাতে পারছেন। সেইসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন যে কারও নাম, ঠিকানা, পোস্টাল কোড, ফটো, ফোন নম্বর, ইমেল আইডি। পাঞ্জাবের ট্রিবিউন কাগজে এই খবর ছাপা হতেই তোলপাড় দেশজুড়ে। এতদিন ধরে যে অভিযোগ করে আসছেন বিরোধীরা, এমনকী উইকিলিকসের অ্যাসাঞ্জে পর্যন্ত যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাতে যে সারবত্তা আছে,ট্রিবিউনের এই রিপোর্ট সিলমোহর দিয়েছে তাতে। এই রিপোর্ট ছাপার পরই আধার কার্ডের সংস্থা ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা ইউআইডিএআই তড়িঘড়ি দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে এফ আই আর দায়ের করেছে ট্রিবিউনের সেই রিপোর্টার রচনা খৈরার নামে। গোটা দেশের সাংবাদিক, সম্পাদকদের সংগঠন প্রবল প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকারের এই কাজের। অপরাধ পরিচয় গোপন করে জালিয়াতি, জালিয়াতি, নকল দলিল ব্যবহার। আইটি ও আধার আইনের ধারা তুলে দায়ের হয়েছে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, কোনো গর্হিত কাজ তদন্ত করে তুলে ধরাটাই কি তাহলে অপরাধ যেটা সাংবাদিকদের কাজ। তাহলে কি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এই জমানায় কেবল কথার কথা। কাজের ঘোর নিন্দা করেছে সাংবাদকিদের সংগঠনও। তাদের মতে, এটা সাংবাদিকদের হুমিক ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি আধার কার্ডের নিরাপত্তা এতই নিশ্ছিদ্র হয়, তবে এই দমনমূলক পদক্ষেপ কেন। যারা আধার ব্যবস্থার ফাঁকফোকর তুলে ধরেছে, উল্টে তাদের বিরুদ্ধেই এফ আই আর করা হল কেন। দেশের জ্ন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণএই কাজে তাদের সাজা হবে কেন। সাংবাদিকরা তো তাদের কাজই করেছেন। কেন হস্থক্ষেপ করা হবে তাদের কাজে। ইউআইডিএআই সাফাই দিয়েছে, সাংবাদিকদের কাজে হস্তক্ষেপ তারা করেনি। যখনই কোনও অপরাধ ধরা পড়ে, তখনই তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। এমনকি তাদের কাজের স্বপক্ষে তারা সুপ্রিম কোর্টের একটি পুরানো রায়েরও উল্লেখ করেছে। প্রশ্নটা এজন্যই আরও বড় হচ্ছে, কারণ এই সরকার আসার পর থেকেই মুক্তচিন্তার উপর বারেবারে আঘাত আসছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ওপরই ঝুলছে বড়ড প্রশ্নচিহ্ন। এধরনের কোনও ঘটনা নিয়েই প্রধানমন্তী মুখ খোলেননি, কোনও প্রতিক্রিয়া নেই সরকারের তরফেও। তাই সন্দেহ হওয়া অস্বাভাবিক নয়, সরকার আসলে এমনটাই চাইছে।